• বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬, ০৪:০৬ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]

আটোয়ারীতে চলতি মৌসুমে পাট চাষ করে কৃষকদের মুখে হাসি

হৃদয় কুমার, আটোয়ারী (পঞ্চগড়) সংবাদদাতা / ১১৩৫ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : শনিবার, ১২ জুলাই, ২০২৫

পঞ্চগড় জেলা আটোয়ারী উপজেলায় সোনালী আঁশ পাট চাষীদের মুখে হাসি ফিরে পেতে শুরু করেছে। এবারের আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় অন্যান্য বছরের তুলনায় এবারে পাটের বাম্পার ফলন এসেছে।
সেইসাথে বর্তমান বাজারদরে পাট চাষীদের মন হাসি-খুশি। পঞ্চগড় জেলার আটোয়ারী উপজেলার গম,ভুট্টা ,ধানের পাশাপাশি এখানে পাটের উৎপাদন ও হেক্টর প্রতি ফলন ও এবারে বেশি হয়েছে। বিগত বছরগুলোতে পাটের দাম নিম্নমুখী হওয়ায় কৃষকরা পাট চাষের আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিলো।
তবে চলতি মৌসুমে পাটার বাজার মূল্য মন প্রতি ৩ হাজার ৫শত থেকে ৩ হাজার ৮ শত টাকা হওয়ার কৃষকেরা লাভের মুখ দেখেছে। আজ শুক্রবার  সকাল থেকে আটোয়ারী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পর্যায় পরিদর্শন করে জানা যায়, যেমন আটোয়ারী ৩নং আলোয়াখোয়া ইউনিয়ন মির্জাপুর ইউনিয়ন তোড়িয়া ইউনিয়ন বলরামপুর ইউনিয়ন এসব এলাকার পাট চাষীদের কাছ থেকে জানা যায় পাট চাষের কথা কৃষকরা জানান , চলতি মৌসুমে এক বিঘা জমিতে পাট চাষ করে ১০থেকে সারে ১২হাজার টাকা খরচ করে লাভ হচ্ছে ৩৮থেকে ৫২ হাজার টাকা।
পাটের আঁশ ছাড়াও পাট খড়ির চাহিদা বাজারে প্রচুর। পাটখড়ি বিক্রি করলে চাষিরা মোটা অংকের অর্থ পেয়ে থাকে । এবারে পাটের উৎপাদন ভালো হয়েছে, সেইসাথে কৃষকেরা উৎপাদিত পাটের দাম ও ভালো পাচ্ছেন। আশা করি আগামী বছরে আরো পাটের ফলন বাড়বে । কৃষকরা পাট সংরক্ষণ ও বাজারজাত করণে সরকারের সহযোগিতা কামনা তারদের।
দেশের অর্থনীতির এক সময়ের প্রধান চালিকাশক্তি ছিল পাট। একসময় বাংলাদেশের প্রধান রফতানি পণ্য হিসেবে যা ‘সোনালী আঁশ’ নামে খ্যাত ছিল। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় কৃষি কাঠামোর পরিবর্তন, বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের পরিবর্তনের ফলে দিন দিন পেছনে পড়ে যাচ্ছে এই ঐতিহ্যবাহী কৃষি পণ্যটি। উৎপাদন খরচের তুলনায় লাভ কম, আর জাগ দেওয়া বা পঁচানোর জায়গা ও পানির সংকটের কারণেই মূলত কমে যাচ্ছে পাটের চাষাবাদ।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পাট চাষে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পানি সংকট। আগে বর্ষা মৌসুমে খাল-বিল, ডোবা ও জলাশয়ে সহজেই পাট পঁচানো যেত। এখন বর্ষা কমে গেছে, খাল-বিল শুকিয়ে যায় অল্পদিনেই। যার ফলে পাট পঁচানোর প্রয়োজনীয় পানি পাওয়া যায় না।
তিনি আরও বলেন, ‘বাজারে এখন পাটের দাম তুলনামূলক ভালো হলেও পানি সংকট এবং লাভজনক অন্যান্য ফসলে কৃষকদের আগ্রহের কারণে পাটের আবাদ কমেছে এটা সত্যি।’
স্থানীয় কৃষকরা মনে করেন, শুধু প্রণোদনা নয়, পাট পঁচানোর জন্য খাল-বিল খনন, পানি সংরক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার এবং সঠিক বাজার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা না গেলে পাট চাষে কৃষকের ফিরে আসা কঠিন হয়ে পড়বে।
Facebook Comments Box


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd
error: Content is protected !!