
দিনাজপুর জেলার ব্যানানা জাতের আম দেশের বাইরে ইউরোপের ৩টি দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠানো শুরু করা হয়েছে।
বিরল উপজেলার মমিনুল ইসলামের আম বাগান থেকে ১শ কেজি আম সুইজারল্যান্ডে প্রেরণ করা হল। এছাড়া পর্যায়ক্রমে সুইডেন ও কাতারে ৩ মেট্রিক টন ব্যানানা আম, কাটিমন, বারি-৪ জাতের আম রপ্তানি করা হবে।
দিনাজপুর বিরল উপজেলার উন্নত জাতের আম বাগানের মালিক মোঃ মমিনুল ইসলাম এই তথ্য জানান। তিনি বলেন,বিরল উপজেলার সদর ডাঙ্গা গ্রামে ৪ একর জমিতে ব্যানানা আম, বারি-৪, কাটিমন ও বিএন সেভেন জাতের আম চাষ করা করা হয়েছে। বাগানের বাছাইকৃত ব্যানানা জাতের আম ক্যারেট ভর্তি করে প্রথম চালান গেল ২১ জুন সুইজারল্যান্ডে পাঠানো হয়েছে।

আম-চাষি মমিনুল ইসলাম বলেন, রাজশাহী অঞ্চলের আম চাষিরা দিনাজপুরের বিরল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এসে ১০ থেকে ১৫ বছরের জন্য জমি লীজ নিয়ে আমের চাষ শুরু করেছেন। তাদের আম চাষ দেখে নিজে উদ্বুদ্ধ হয়ে বিরলের কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের পরামর্শ-ক্রমে আম বাগান শুরু করেছি। গত ২০১৯ সালে ৪ একর জমির ওপর এই উন্নত জাতির সুস্বাদু আম বাগান প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। বিরল উপজেলা কৃষি বিভাগের দিক- নির্দেশনায় সম্পূর্ণ জৈব সার ও বালাই-নাশক ব্যবহার করে আম চাষ করা হচ্ছে। গত বছর আম গাছে সামান্য পরিমাণ আম ধরলেও এবার ব্যাপক হারে আম ধরেছে। ছোট ছোট ব্যানানা জাতের আমের গাছে ১০০ থেকে ২৫০টি পর্যন্ত একেকটি গাছে আম ধরেছে। চমৎকার আমের আকার ও রং হওয়ার কারণে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। প্রথমে স্বল্প পরিমাণে আম-চাষ শুরু করলেও সফলতা দেখে দিন দিন চাষে আগ্রহ বেড়ে গেছে। বর্তমানে বিরল উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে জমি লীজ নিয়ে ১৮ একর জমির ওপর আম বাগান করেছি। এখন প্রায় ৭ হাজার ৫৬০টি বিভিন্ন জাতের আমের গাছ রয়েছে।
তিনি বলেন, আমার এই আম বাগানে ২৫ থেকে ৩০ জন মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে। গত বছর সদর ডাঙ্গা গ্রামে এই আম-বাগান থেকে স্বল্প পরিমাণ আম পাওয়া গেলেও এ বছর কয়েক টন আম এই বাগান থেকে পাওয়া যাবে বলে আশা করছি। ২০ জুন থেকে আম হার্ভেস্টিং শুরু করে দিয়েছি। বাগান থেকেই ব্যানানা জাতের আম ১২০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে। দূর দুরান্ত থেকে গ্রাহকরা আগ্রহ সহকার তার বাগাল থেকে উন্নত জাতের এই ব্যানানা আম ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছে। আশা করছি এই দাম থাকলেও কয়েক লাখ টাকা এই বাগান থেকে আয় করা সম্ভব হবে।
আম ক্রয় করতে আশা গ্রাহক দিনাজপুর শহরের বালুবাড়ী মহল্লার কলেজ শিক্ষক মোঃ নাজমুল হাসান বলেন,গত বছর তিনি মমিনুল ইসলামের আম বাগান থেকে ২ কেজি ব্যানানা আম ক্রয় করে নিয়ে গিয়ে ছিলাম। এই উন্নত জাতের আম খেতে খুব সুস্বাদু, তাই এবারও তার বাগান থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে ৫ কেজি আম ক্রয় করে নিলাম। তিনি বলেন, নিজে খাবো এবং আত্মীয়-স্বজনদেরও এই আম খাওয়াবো বলে আশা করেছি।
আম চাষি মমিনুল ইসলাম বলেন, দিনাজপুর বিরল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মোস্তফা হাসান ইমাম এর পরামর্শ সহযোগিতায় গত বছর ইংল্যান্ডে আমি আম প্রেরণ করে ছিলাম। এ বছর সুইডেন, সুইজারল্যান্ড ও কাতারে আম রপ্তানি করার জন্য কৃষি ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যৌথ ভাবে নির্দেশনা পাওয়া গেছে। এই প্রথম আমার এই সদর ডাঙ্গা আমবাগান থেকে ব্যানানা জাতের একশ কেজি আম কয়েকটি ক্যারেট করে রপ্তানি করছি। আশা করছি ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ থেকে আম রফতানির অর্ডার পাব।

বিরল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তফা হাসান ইমাম বলেন, দিনাজপুরের বিরল একটি কৃষি সম্ভাবনাময় উপজেলা হিসেবে ইতিমধ্যে সুনাম অর্জন করেছে। এই উপজেলায় ব্যাপক পরিমাণ লিচুর উৎপাদন হলেও এখন আমের উৎপাদনে অনেক এগিয়ে গেছে।ইতিমধ্যেই অনেক চাষীরা আম চাষে উদ্বুদ্ধ হয়ে বেশ কয়েকটি বড় বড় আমবাগান সৃজন হয়ে গিয়েছে। গত বছর দিনাজপুর বিরল উপজেলা থেকেই ইংল্যান্ডে প্রথম আম পাঠানো হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালে আমরা ইতিমধ্যে তিনটি দেশ থেকে আম রপ্তানি করার জন্য নির্দেশনা পেয়েছি। এই প্রথম ব্যানানা জাতের ১০০ কেজি আমের প্রথম চালান হিসেবে পাঠানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে যে তিন মেট্রিক টন আমের চাহিদা তারা আমাদেরকে পাঠিয়েছে। পর্যায়ক্রমে আমরা এই আম পাঠিয়ে দিতে পারব। এতে করে আম চাষি যেমন লাভবান হবে, ঠিক দিনাজপুর বিরল উপজেলা আম চাষিরা অর্থনৈতিক ভাবে সচল হবে বলে তিনি আশা করছেন।
দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ আফজাল হোসেন বলেন,দিনাজপুর জেলা থেকে উৎপাদিত উন্নত জাতের ব্যানানা সহ কয়েকটি জাতের আম গত বছর দেশের বাইরে পরীক্ষা মূলক রপ্তানি করা হয়েছে। চলতি বছর ইউরোপের কয়েকটি দেশে এই জেলার আম রপ্তানির চাহিদা পাওয়া গেছে।আম চাষিদের সাথে আলোচনা করে চাহিদা অনুযায়ী আম গুলো রপ্তানি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খুব শীঘ্রই আম গুলো রপ্তানির জন্য প্রেরণ করা হবে বলে আশা করছেন।