• বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬, ০২:৪৯ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]

আটোয়ারীর চা বাগান গুলোয় শুরু প্রুনিং কার্যক্রম

হৃদয় কুমার, আটোয়ারী (পঞ্চগড়) সংবাদদাতা / ৩৯২ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : বুধবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২৬

আটোয়ারীর চা বাগান গুলোয় শুরু প্রুনিং কার্যক্রম

নানা প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে সমতলের চায়ের আটোয়ারী পঞ্চগড়ে চা বাগানগুলোতে শুরু হয়েছে প্রুনিং কার্যক্রম। জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে টানা দুই মাস চা পাতা উত্তোলন এবং চা প্রক্রিয়া জাত করণ কারখানা বন্ধ থাকায়, এই সময়টিকে কাজে লাগিয়ে গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিকরা।

 

সরেজমিনে দেখা গেছে, নতুন কুঁড়ি ও পাতা উৎপাদনের প্রস্তুতিতে কোথাও আগাছা পরিষ্কার করা হচ্ছে, কোথাও গাছের মাথা ও ডালপালা ছেঁটে দেয়া হচ্ছে। এতে করে পুরো বাগান জুড়েই আটোয়ারী পঞ্চগড় জেলা দেখা দিয়েছে। চা গাছ পরিপূর্ণ ও সুস্থ রাখার জন্য কাণ্ড, শাখা, পাতা ও ফুল কেটে দেয়া হয় প্রুনিং প্রক্রিয়ায়। এতে গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি নিশ্চিত হয় এবং পরবর্তী মৌসুমে চা উৎপাদন বাড়ে।

 

বাগান মালিক ও শ্রমিকরা জানিয়েছেন, গত কয়েক বছর ধরে চা চাষিরা নানা সিন্ডিকেটের শিকার হলেও জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ চা বোর্ডের সহায়তায় আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা চলছে। তবে এখনও কীটনাশক সংকটসহ কিছু সমস্যা রয়েছে।

 

চা বাগানে কাজ করা শ্রমিক হোসেন আলী ও আকবর আলী বলেন, কাঁচা চা পাতা উত্তোলনের মৌসুম না থাকায় বর্তমানে আমরা বাগান পরিচর্যা করছি। কীটনাশক ও প্রয়োজনীয় সার দেয়া হচ্ছে। সঠিক পরিচর্যা করলে দুই মাস পর ভালো পাতা পাওয়া যাবে। প্রতিদিন আমরা ৫০০ টাকা মজুরি পাচ্ছি।

 

চা বাগান মালিক আতিয়ার রহমান বলেন, একসময় সিন্ডিকেট ও নানা সমস্যার কারণে বিপাকে পড়লেও এখন পাতার ভালো দাম মিলছে। আশা করি এই ধারা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। রক্ষা করতে প্রশাসন ও চা বোর্ডকে কঠোর অবস্থানে থাকতে হবে।

 

আটোয়ারীর চা ব্যবস্থাপক বাবুল আলম বলেন, ২০২৫ সাল আমাদের এবং চা চাষিদের জন্য আশীর্বাদের বছর ছিল। ২০২৪ সালে চা পাতা ক্রয় নিয়ে সমস্যা হয়েছিল, কারণ মার্কেটে সঠিক মূল্যে প্রক্রিয়া জাত করণ চা বিক্রি করতে না পারায় চাষিদের ন্যায্য মূল্য দিতে পারিনি। ২০২৫ সালে ভালো মানের চা পাঠাতে পেরেছি, যার ফলে চাষিরাও ভালো দাম পেয়েছেন। জেলা প্রশাসন, চা বোর্ড, মালিক এবং চাষিদের আন্তরিকতায় এটি সম্ভব হয়েছে। আশা করছি ২০২৬ সালেও ভালো ফলন হবে।

পঞ্চগড়ের আটোয়ারীর চা বাগান

বাংলাদেশ চা বোর্ডের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে আটোয়ারী পঞ্চগড়ে চা উৎপাদন হয়েছে ১ কোটি ৭২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৬৬ কেজি, যা আগের বছরের তুলনায় ৪৯ লাখ ২৯ হাজার ১১৮ কেজি বেশি। উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি চা চাষের পরিধিও বেড়েছে। এবার জাতীয় উৎপাদনের ২২ শতাংশ চা আটোয়ারী পঞ্চগড়ে হয়েছে।

 

চা বোর্ড ও জেলা প্রশাসন বলছে, সমতলের প্রায় ৫০০ কোটি টাকার এই শিল্প রক্ষায় নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ চা বোর্ড আটোয়ারী পঞ্চগড় আঞ্চলিক কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমির হোসেন বলেন, গত কয়েক বছরের তুলনায় ২০২৫ সালে ভালো মানের চা উৎপাদন হয়েছে। এর বাজার মূল্য প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। এ ধারা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতেও চাষের পরিধি বাড়বে।

 

আটোয়ারী পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক কাজী মৌ দুলাল ইসলাম বলেন, পঞ্চগড়ের সমতলের চা শিল্প রক্ষায় আমরা নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। চা পাতার মান ভালো রাখার জন্য এবং ভালো মানের চা উৎপাদনে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার চা বাগান

২০০০ সালে আটোয়ারী পঞ্চগড়ের সমতল ভূমিতে প্রথম চা চাষ শুরু হয়। পরে তা পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতেও সম্প্রসারিত হয়ে বর্তমানে ১১ হাজার ৫৯৯ দশমিক ৮৯ একর জমিতে চা চাষ হচ্ছে। ২০২৫ সালে এই বাগানগুলো থেকে উত্তোলিত ৯ কোটি ৭৭ লাখ ৪৬ হাজার ৬১১ কেজি সবুজ চা পাতা থেকে উৎপাদিত হয়েছে ২ কোটি ২ লাখ ৪২ হাজার ৫২ কেজি চা। এর মধ্যে শুধু আটোয়ারী পঞ্চগড়ে উৎপাদন হয়েছে ১ কোটি ৭২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৬৬ কেজি।

Facebook Comments Box


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd
error: Content is protected !!